CJP Protest

‘দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার,’ জ্ঞানেশ-আন্দোলন ‘ফ্লপ’ হওয়ায় আবেগ টানতে নতুন কৌশল ককরোচ নেতাদের

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা নিয়ে ওয়াকিবহাল না থাকা তথাকথিত ‘জেন জি’-রা সেসব দিনের সঙ্গে তুলনা করেছে। আশুতোষ বলেন, “গতকাল জরুরি অবস্থার সীমাও পেরিয়ে গিয়েছে বিজেপি সরকার। স্বাধীন ভারতে কখনও এইরকম পরিস্থিতি হয়নি।”

ককরোচদের নেতা সৌরভ দাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:১১

শনিবারের জ্ঞানেশ-আন্দোলন ‘ফ্লপ’ হওয়ার পরে নতুন কৌশল নিল কৌশল নিল ককরোচ পার্টি। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার নাকি দেশকে ‘গৃহযুদ্ধের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নাগরিকদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াচ্ছে তাঁরা। যন্তর মন্তরে জ্ঞানেশ-আন্দোলন ‘ফ্লপ’ হওয়ার পরেই এই নতুন কৌশল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকতে তাঁদের তথাকথিত সমর্থকদের এই ইস্যুতে রাস্তা না ছাড়ার বার্তাও তাঁরা দিয়েছে।

শনিবার মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক দিয়েছিল। তার পরেই অশান্তি ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ করে দিল্লি পুলিশ। সকাল থেকে শুরু হয় ধরপাকড়। দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ককরোচের অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমানে ঢুকে আটক করে নিয়ে চলে যায় পুলিশ। তাঁদের পরে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার সকালে এক্সিকিউটিভ ম‍্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকার বন্ডে তাঁদের জামিন মেলে।

রাজধানীকে শান্তিপূর্ণ রাখতে দিল্লি পুলিশের অভিযানে কার্যত ফ্লপ হয়ে গিয়েছে ককরোচদের আন্দোলন। তাঁরা কখনও বলছেন, পুলিশ অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে, আবার কখনও বলছেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ‘গৃহযুদ্ধের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের ‘জেন জি’ বলে পরিচয় দিয়ে সমাজমাধ‍্যমে তৈরি হওয়া আপাদমস্তক ‘কমিউনিজম’-এর ভাবশিষ‍্যদের মদতে তৈরি হয়েছে এই ককরোচ পার্টি। নিজেদের ‘স্বার্থ সিদ্ধির’ জন্য গণ লড়াই বলে চালানোর চেষ্টা করছেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনের ঝাঁজ থাকলেও এই আন্দোলনের সে ভাবে লোকই জোটেনি। তাই এ বারে আর তাঁদের ফাঁদে আর বেশিরভাগই পা দেয়নি বলে মনে করছেন তাঁরা।

রবিবার ছাড়া পাওয়ার পরে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসেরা। আশুতোষ অভিযোগ করেন, সিজেপি-র তথাকথিত প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সৌরভকে আটক করার সময় অমানবিকতার পরিচয় দেয় পুলিশ। দীপকে-র ঠাকুমার মৃত্যুর খবরও অসংবেদনশীলতার সঙ্গে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

সৌরভের আবার অন‍্য দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আটক করার পর তাঁদের তিন জনকে তিনটি আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। ফোন কেড়ে নেয় পুলিশ। এমনকী, আইনজীবীদের সঙ্গেও তাঁদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ তাঁদের ফোন পরীক্ষা করে দেখতে পারে। সেখানে এমন কিছু তথ্য ঢুকিয়ে দিতে পারে, যা পরে তাঁদের হেনস্থা করতে কাজে লাগাবে পুলিশ।

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা নিয়ে ওয়াকিবহাল না থাকা তথাকথিত ‘জেন জি’-রা সেসব দিনের সঙ্গে তুলনা করেছে। আশুতোষ বলেন, “গতকাল জরুরি অবস্থার সীমাও পেরিয়ে গিয়েছে বিজেপি সরকার। স্বাধীন ভারতে কখনও এইরকম পরিস্থিতি হয়নি।”

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ এবং তার সাপেক্ষে কী তথ‍্য প্রমাণ রয়েছে তা জনগণের সামনে প্রকাশ না করে ককরোচ নেতা সৌরভের দাবি, তাঁকে বাঁচাতে বিজেপি এত তৎপর কেন। দিল্লি পুলিশকে এবং কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আশুতোষ বলেন, “আমাদের লড়াই সবে শুরু হল।” শনিবারের পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লজ্জিত হওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।

জ্ঞানেশ-আন্দোলনের প্রভাব জনগণের ওপর না পড়ার আভাস তাঁরা পেয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে এটাকে হুঁশিয়ারি নয় বরং রাজনীতির ময়দানে নিজেদের টিকিয়ে রাখা এবং আন্দোলন ‘ফ্লপ’ হওয়ায় ঘুরপথে জনপ্রিয়তা টানার কৌশল বলেও দেখছে রাজনৈতিক মহল।


Share