Amit Shah

রাজ‍্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ২৮ মার্চ প্রকাশিত হতে পারে বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’, তোড়জোড় শুরু করল বিজেপি

গত শুক্রবার তৃণমূলের তরফ থেকে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সেই কর্মসূচি নিয়ে আগে থেকে বিশেষ প্রচার ছিল না। বিজেপি সেই পথ না নিয়ে ইস্তাহার প্রকাশকে বড় রাজনৈতিক বার্তা তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখছে।

অমিত শাহ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ০৬:৩৪

নির্বাচনের আগে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ এবং ব্রিগেড সমাবেশও হয়েছে। এরপরেই পশ্চিমবঙ্গে নজর কাড়তে আরও একটি বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। এ বার দলের নির্বাচনী ‘সঙ্কল্পপত্র’ বা ইস্তাহার প্রকাশের মঞ্চে থাকতে পারেন অমিত শাহ। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিল্লি থেকে নয়, কলকাতায় এসে তিনি এই ইস্তাহার প্রকাশ করবেন। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু দলের ভাষ্যনির্মাণে এই কর্মসূচিকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি করতে শুরু করেছে বিজেপি।

গত শুক্রবার তৃণমূলের তরফ থেকে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সেই কর্মসূচি নিয়ে আগে থেকে বিশেষ প্রচার ছিল না। বিজেপি সেই পথ না নিয়ে ইস্তাহার প্রকাশকে বড় রাজনৈতিক বার্তা তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখছে। দল চাইছে, ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই প্রতিশ্রুতিগুলি নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা শুরু হোক। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সামনে রাখার পরিকল্পনা।

দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, তিনি ২৭ ও ২৮ মার্চ রাজ্যে থাকবেন। ২৮ মার্চ, শনিবার, রাজ্য নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় ইস্তাহার প্রকাশ করতে পারেন তিনি।

এর আগে ২ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির সভা থেকে শাহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ছিল ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর, ছ’মাসের মধ্যে শূন্য সরকারি পদে নিয়োগ, বিলুপ্ত পদ পুনরুজ্জীবন এবং সরকারি চাকরির বয়সসীমায় পাঁচ বছরের ছাড়। বিজেপির ধারণা, এই ধরনের প্রতিশ্রুতি শাহের মুখে উচ্চারিত হলে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ে।

সেই ধারাবাহিকতায় পূর্ণাঙ্গ সঙ্কল্পপত্রেও এই ঘোষণাগুলি থাকার সম্ভাবনা প্রবল। পাশাপাশি লক্ষীর ভান্ডারের বিকল্প হিসেবে বিজেপির ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’, যুবসাথী-র মতো প্রকল্প নিয়ে দল কী ভাবছে, তা-ও স্পষ্ট করা হতে পারে। এছাড়া রাজ্যের অর্থনীতি, পরিকাঠামো, শিল্পে লগ্নি, কর্মসংস্থান, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে ইস্তাহারে।

গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে ‘ড্রপবক্স’ বসিয়ে সাধারণ মানুষের পরামর্শ সংগ্রহ করেছে বিজেপি। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন দলের নেতা, সাংসদ ও বিধায়করা। বিজেপির সঙ্কল্পপত্র কমিটির চেয়ারম্যান তাপস রায় জানিয়েছেন, ‘‘রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে সব ধরনের মানুষের কাছে গিয়ে আমরা পরামর্শ সংগ্রহ করেছি। প্রতিটি পরামর্শ দেখে ঝাড়াই-বাছাই করে আমরা সেরা সঙ্কল্পপত্র তৈরি করার চেষ্টা করেছি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাতে কিছু সংযোজন-বিয়োজন হয়তো করতে পারেন। তবে অমিত শাহের হাত দিয়ে সঙ্কল্পপত্রের উন্মোচন হবে, এর চেয়ে ভাল খবর কিছু হতেই পারে না।’’

তৃণমূলের ইস্তাহারকে ‘ভাঁওতা’ আখ্যা দিয়ে তাপস বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষ সব সময়ে আগের বারের আর পরের বারের ইস্তাহার মিলিয়ে দেখেন না। মিলিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন যে, তৃণমূল ২০১১ সালে যা বলেছিল, ২০১৬ সালে বা ২০২১ সালেও সেই একই কথা ইস্তাহারে লিখেছিল। ২০২৬ সালে এসেও সেই একই ইস্তাহার!’’


Share