Assembly Election

‘হেরে যাওয়া পর্যন্ত এখানেই বসে থাকার পরিকল্পনা ছিল’ স্ট্রং-রুম পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর

শুক্রবার ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী আরও বলেন, “নীচে সিসি ক্যামেরা বসানো আছে। সেখানে সবাই থাকতে পারে। প্রতিটি দলের চারজন করে সেখানে থাকতে পারে। আমরাও থাকতে পারি। নির্দলের এজেন্টরাও আছে। প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে যেতে পারেন।”

শেখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৮:৪৫

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের স্ট্রং-রুম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। পরের দিনই পৌঁছে গেলেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রং-রুমের সামনে থাকতে গিয়েছিলেন। তাঁর আগামী ৪ মে পর্যন্ত সেখানে থাকার পরিকল্পনা ছিল। শুভেন্দুর দাবি, কিন্তু বিজেপি কর্মীদের জন‍্য সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে।

শেখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রং-রুম করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানেই গিয়েছিলেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এজেসি রোডের দিক থেকে ঢুকে সোজা শেখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে যান। প্রায় পাঁচ মিনিট ভিতরেই ছিলেন। তার পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

এ দিন বাইরে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল বাড়িতে পড়ার শাড়ি পড়ে এখানে এসেছিলেন। অভিযোগ, তিনি এখানে থাকতেন। এমনটাই নাকি তাঁর পরিকল্পনা ছিল। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ওনার ধর্ণা দেওয়া, অবস্থানে বসার মতো একটা বদ অভ‍্যাস আছে। তাই ওনার জন‍্য পাঁচতারা হোটেলের মতো ওয়াশরুম এসেছিল। বিজেপি কর্মীরা গাড়িটিকে তাড়িয়ে দিয়েছে। সেই কারণে তাঁকে পালাতে হয়েছে।” এর পরেই তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “আগামী ৪মে যতক্ষণ না হারছেন ততক্ষণ পর্যন্ত এখানেই তাঁর বসে থাকার পরিকল্পনা করে এসেছিলেন।”

গতকাল রাতের দিকে শেখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে স্ট্রং-রুম পরিদর্শন করতে যান মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুরে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁকে আটকানো হয় বলে অভিযোগ তোলেন। বলেছিলেন, বিভিন্ন লোককে ফোন করার পরে তাঁকে ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হয়। প্রায় চার ঘন্টা ওই স্কুলের মধ‍্যেই ছিলেন। পরে বেরিয়ে মমতা বলেন, “স্ট্রং-রুমে ইভিএমে কারচুপি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পেছিলেন। তাই এখানে এসেছি।” তিনি এ-ও জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী অনেক অত‍্যাচার করেছেন। আমাদের অনেক বুথের এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে। মানুষের ভোট লুঠ হতে দেব না।”

এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “খুবই সোজা কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটবার লোকসভা নির্বাচন এবং চারবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছেন। উনি নিয়মটা ভালো ভাবেই জানেন। উনি অনৈতিক ভাবে নাটক করেছেন। এর কোনও যুক্তি নেই। সম্পূর্ণটাই মিথ্যা। এটা হতেই পারে না।”

এ ছাড়াও, যে সমস্ত আধিকারিকেরা মুখ্যমন্ত্রীকে এতক্ষণ ধরে স্ট্রং-রুমে সামনে থাকার অনুমতি দিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যেও কিছু কথা বলেছেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “চার ঘন্টা কোনও প্রার্থীকে স্ট্রং-রুমের অত কাছে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। তাঁরা অনুমতি দিয়েছেন, সম্মান দিয়েছেন, তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। এখানকার রিটার্নিং অফিসার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করব না। কিন্তু তাঁরা যেটা করেছেন, তা নিয়ম বহির্ভূত কাজ করেছেন।”

শুক্রবার ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী আরও বলেন, “নীচে সিসি ক্যামেরা বসানো আছে। সেখানে সবাই থাকতে পারে। প্রতিটি দলের চারজন করে সেখানে থাকতে পারে। আমরাও থাকতে পারি। নির্দলের এজেন্টরাও আছে। প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে যেতে পারেন। যেমন আমি গেলাম। পাঁচ মিনিট ছিলাম। সব ঠিকঠাক আছে, দেখে চলে এলাম।”


Share