Assembly Election

কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘিরে ক্ষোভ, নির্দল লড়াইয়ের পথে অসিত মিত্র

চারবারের বিধায়ক অসিত মিত্রকে টিকিট না দেওয়ায় তিনি আমতা থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা করেছেন। বহিরাগত প্রার্থী নিয়ে অভিযোগ ও অসন্তোষে দলীয় অন্দরে অশান্তি বাড়ছে।

বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতা অসিত মিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ০২:৫৪

প্রার্থী তালিকা ঘিরে কংগ্রেসে ক্ষোভ। নির্দল লড়ার ঘোষণা প্রবীণ নেতা অসিত মিত্রর। পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই কংগ্রেসের অন্দরমহলে অসন্তোষ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে হাওড়া জেলার একাধিক কেন্দ্রে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিনের কংগ্রেস নেতা অসিত মিত্র। তিনি চারবারের বিধায়ক। কল্যাণপুর ও আমতা—এই দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছেন। তবে তাঁকে এবার প্রার্থী করা হয়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয়, রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও দল পরিবর্তন করেননি। এমনকি মন্ত্রীত্বের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সেই নেতার নাম প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় না থাকায় তিনি ক্ষুব্ধ। দলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় অসিত মিত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল তাঁকে প্রার্থী না করলেও তিনি আমতা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন। তাঁর কথায়, আমতার মানুষের স্বার্থে এবং কংগ্রেসের আদর্শে বিশ্বাস রেখে তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গিয়েছেন। আগামীতেও সেই লড়াই চালিয়ে যাবেন।

এদিকে, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর হাওড়ার আমতা, পাঁচলা, জগৎবল্লভপুর, উলুবেড়িয়া উত্তর, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, বাগনান এবং উদয়নারায়ণপুর—এই সব কেন্দ্রেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠছে, বহু ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের উপেক্ষা করে বহিরাগতদের প্রার্থী করা হয়েছে। কোথাও আবার সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার নন এমন ব্যক্তিকেও টিকিট দেওয়া হয়েছে। এমনকি অন্য দল থেকে আসা নেতাদেরও প্রার্থী করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

হাওড়া জেলা গ্রামীণ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি আলম দেইয়ানও স্বীকার করেছেন যে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে একাধিক জায়গায় অসন্তোষ রয়েছে। তিনি জানান, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ কেন্দ্রে যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। ওই কেন্দ্রে স্থানীয় নেতা রিভু সান্যালের নাম প্রস্তাব করা হলেও তা মানা হয়নি। একইভাবে আমতা কেন্দ্রেও ‘বহিরাগত’ প্রার্থী দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, আলম দেইয়ান নিজেও উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কর্মীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা নন। অন্যদিকে, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ইন্তাজ আলি শাহকে। তাঁর বাড়ি মেদিনীপুরে বলে জানা গেছে। অসিত মিত্রর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আমতা কেন্দ্রে হাওড়া জেলা কিষাণ কংগ্রেসের সভাপতি তপন দাসকে এবার প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি বালি এলাকার বাসিন্দা। শ্যামপুর কেন্দ্রে মনজুর আলমকে প্রার্থী করায় সেখানেও দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, আরামবাগ মহকুমার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রেই কংগ্রেস নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আরামবাগে সুশীল সাঁতরা, গোঘাটে হারাধন সাঁতরা, খানাকুলে প্রদীপকুমার কর এবং পুরশুড়ায় হাবিবুর রহমান ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমে পড়েছেন। সব মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর কংগ্রেসের অন্দরে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা ভোটের আগে দলের সংগঠন এবং ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।


Share