Assembly Election

প্রথম দফায় ৯৩ শতাংশের বেশি ভোটদানের নজির, ‘গেম চেঞ্জার’ মহিলারা, জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে চমক

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট এক কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৭ হাজার মহিলা ভোটারের মধ্যে এক কোটি ৬৫ লক্ষ ৪০ হাজারেরও বেশি মহিলা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩৭

বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোটে ৯৩.১৯ শতাংশ ভোটদানের হার দেখে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। সকলেই একমত, এই সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে মহিলা ভোটারদের বড় ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই মহিলাদের উপস্থিতি পুরুষদের সমান, আবার অনেক ক্ষেত্রে তা ছাপিয়েও গিয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট এক কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৭ হাজার মহিলা ভোটারের মধ্যে এক কোটি ৬৫ লক্ষ ৪০ হাজারেরও বেশি মহিলা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই বিপুল অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

জেলায় জেলায় মহিলা ভোটের ঢেউ
উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল সর্বত্রই মহিলা ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নজর কেড়েছে। কোচবিহারে প্রায় ১০.৫ লক্ষ মহিলা ভোটার অংশ নিয়েছেন, ভোটের হার প্রায় ৯৬ শতাংশ। মুর্শিদাবাদে ২৩ লক্ষেরও বেশি মহিলা ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা সর্বোচ্চ অংশগ্রহণের মধ্যে অন্যতম। মালদহে প্রায় ১২.৯ লক্ষ এবং বীরভূমে ১২.৫ লক্ষ মহিলা ভোটার বুথমুখী হয়েছেন।

পাহাড় থেকে গ্রাম সর্বত্র এক ছবি
দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো পাহাড়ি জেলাতেও মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দার্জিলিংয়ে প্রায় ৪.৯৮ লক্ষ মহিলা ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ এলাকায় সকাল থেকেই বুথের সামনে মহিলাদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। শহরের তুলনায় গ্রামীণ ও অর্ধ-শহুরে এলাকায় মহিলাদের উৎসাহ ছিল আরও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের নির্বাচনে নারী ভোট বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো সরাসরি আর্থিক সহায়তার সরকারি প্রকল্প মহিলাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছে।
দ্বিতীয়ত, পরিবার ও সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের ভূমিকা বেড়েছে, ফলে ভোটদানে তাঁদের আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তৃতীয়ত, বুথে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নতি মহিলাদের নির্ভয়ে ভোট দিতে উৎসাহিত করেছে।

এই বিপুল নারী ভোট নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। শাসক দলের দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুফল পেয়েই মহিলারা তাদের সমর্থনে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, নারী নিরাপত্তা ও পরিবর্তনের দাবিতেই মহিলারা বড় সংখ্যায় ভোট দিতে বেরিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনে মহিলা ভোটাররাই যে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে উঠে এসেছেন, তা স্পষ্ট। আগামী ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে, এই বিপুল নারী ভোট কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে গিয়েছে।


Share