Election Commission

সরকারি আধিকারিক বদলিতে কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল, কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না হাই কোর্ট, খারিজ তৃণমূলের মামলা

মামলাকারীর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা থাকলেও তা সীমাহীন নয়। তাঁদের যুক্তি ছিল, এই ধরনের ধারাবাহিক প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ রাজ্য ও কেন্দ্রের সাংবিধানিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১২:০৬

মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ একাধিক সরকারি আধিকারিককে অপসারণের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ তৃণমূলের আপত্তি খারিজ করে জানিয়ে দেয়, কমিশনের প্রশাসনিক পদক্ষেপে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না। একই সঙ্গে বিডিও এবং বিভিন্ন থানার ওসিদের অপসারণ নিয়ে দায়ের হওয়া পৃথক মামলাটিও খারিজ হয়েছে।

রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন ধারাবাহিক ভাবে প্রশাসনিক রদবদল করছে। এই প্রেক্ষিতে আইনজীবী অর্ককুমার নাগ জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। গত ২৩ মার্চ মামলাটি শুনানিতে ওঠে এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মামলাকারীর পক্ষে সওয়াল করেন। আদালতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত দ্রুত এবং ব্যাপক হারে আধিকারিক বদলির পেছনে কমিশনের উদ্দেশ্য কী এবং এই পদক্ষেপ কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমার মধ্যে পড়ে কি না।

শুনানিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন, ভোট ঘোষণার দিন রাতেই মুখ্যসচিবের পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরানো হয় এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মিনাকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যসচিব রাজ্যের প্রশাসনিক কাজের কেন্দ্রে থাকলেও তাঁকে কোনও বিকল্প দায়িত্ব না দিয়েই সরানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিব নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও তাঁকেও বদলি করা হয়েছে।

মামলাকারীর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা থাকলেও তা সীমাহীন নয়। তাঁদের যুক্তি ছিল, এই ধরনের ধারাবাহিক প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ রাজ্য ও কেন্দ্রের সাংবিধানিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে কমিশনের আইনজীবীরা আদালতে জানান, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, বিভিন্ন রাজ্যে ভোটের পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় প্রশাসনিক পদক্ষেপও পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। অন্য রাজ্যেও একই ধরনের বদলি হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, এক দিনের মধ্যেই বিডিও, এআরও, ওসি-সহ মোট ২৬৭ জন আধিকারিককে সরিয়েছে কমিশন। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে জরুরি শুনানির আবেদন করা হয়েছিল। আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেও মঙ্গলবার শুনানির পর সেটিও খারিজ করে দেয়।


Share