Body Recovery

পণের কারণে বধূর মৃত্যু! দশ মাসের মাথায় শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ, গ্রেফতার স্বামী-শ্বশুর

পশ্চিম মেদিনীপুরের যমুনাবালিতে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার ২৫ বছরের বধূর ঝুলন্ত দেহ। পণের দাবিতে অত্যাচার ও খুনের অভিযোগ তুলেছেন মৃতার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী।

দম্পতি স্নেহা চক্রবর্তী ও রণদীপ জানা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর
  • শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০১:২০

আট বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে। বিবাহিত দাম্পত্য জীবন মাত্র দশ মাস। তার মধ্যেই শ্বশুরবাড়ি থেকে বধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। মৃতার নাম স্নেহা চক্রবর্তী (২৫)। পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর সদর ব্লকের যমুনাবালিতে ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনায় পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে স্নেহার স্বামী রণদীপ জানা ও শ্বশুর রতন জানাকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। 

স্নেহার বাপের বাড়ি মেদিনীপুর শহরে। তাঁর বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী পেশায় পুলিশকর্মী। তাঁর দাবি, গত বছরের অক্টোবরে রণদীপের সঙ্গে স্নেহার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে মেয়েকে নানা ধরনের অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছিল। এই ঘটনায় জামাই রণদীপ এবং তাঁর বাবা রতন জানার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ধ্রুব।

জানা গিয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মেয়ের সংসারে অশান্তি চলছিল। সম্প্রতি বিএমডব্লিউ কেনাকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। ধ্রুবর অভিযোগ, রণদীপদের পরিবার বালি ও লরির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও পণের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছিল। সম্প্রতি বিএমডব্লিউ বাইক কেনার জন্যও স্নেহার মাধ্যমে তাঁর কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু সেই দাবি মেনে নিতে রাজি হননি স্নেহা। তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা হয়। এরপর থেকেই মেয়ের উপর অত্যাচার আরও বেড়ে যায় বলে দাবি তাঁর বাবার।

স্নেহার মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, তাঁকে খুন করা হয়েছে বলেই অভিযোগ ধ্রুবর। তাঁর দাবি, পণের টাকা না পেয়ে স্বামী ও শ্বশুর এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার যমুনাবালিতে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্নেহার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের দাবি, আত্মহত্যা করেছেন স্নেহা। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তবে ঘটনার পরেই পণের দাবিতে বধূর উপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে।

ধ্রুব চক্রবর্তীর কথায়, বিয়ের পর থেকেই মেয়ের সংসারে অশান্তি চলছিল। সম্প্রতি বিএমডব্লিউ কেনাকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ধ্রুব। পাশাপাশি, বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, ঘটনার পাঁচ দিন আগে ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন রণদীপ। সেই ছবির সঙ্গেও বিএমডব্লিউর যোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বধূর মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মেদিনীপুর আদালত স্বামীকে চার দিনের পুলিশি হেফাজত এবং শ্বশুরকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।


Share