Lunar Eclipse

২০২৬ সালের ৩ মার্চ আকাশে দেখা যাবে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণে ‘ব্লাড মুন’

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে সরাসরি অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর ছায়া সম্পূর্ণভাবে চাঁদের ওপর পড়ে। এর ফলেই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। এই সময় সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে পারে না।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৬

আগামী ৩ মার্চ ২০২৬ আকাশপ্রেমী ও জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুরাগীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক বিশেষ মহাজাগতিক ঘটনা। এদিন ঘটতে চলেছে বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, যা সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই দীর্ঘস্থায়ী চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যাবে বলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে সরাসরি অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর ছায়া সম্পূর্ণভাবে চাঁদের ওপর পড়ে। এর ফলেই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। এই সময় সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে প্রতিসৃত হয়ে কেবল লাল তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছায়, যার ফলে চাঁদ গাঢ় লাল বা তামাটে বর্ণ ধারণ করে। এই বিশেষ দৃশ্যকেই বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। খালি চোখে, দূরবীন বা টেলিস্কোপের সাহায্যে সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

চন্দ্রগ্রহণ সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে পূর্ণগ্রাস, আংশিক এবং উপচ্ছায়া গ্রহণ। ৩ মার্চের ঘটনাটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হওয়ায় আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে লালচে চাঁদের বিরল দৃশ্য দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যদিও বিজ্ঞানীরা এটিকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, তবু বিভিন্ন সংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসে গ্রহণকে ঘিরে নানা আচার-অনুষ্ঠানের প্রচলন রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিশ্বাসের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ৩ মার্চ রাতেই আকাশে এই বিরল ‘ব্লাড মুন’-এর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন সাধারণ মানুষ ও আকাশপ্রেমীরা।


Share