Election Commission

ভোটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? নির্বাচন কমিশন না রাজ্য, স্পষ্ট জবাব চাইল কলকাতা হাই কোর্ট

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোট নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, তবে সেই বাহিনীকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে রাজ্য প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। কমিশনের দাবি, বাহিনী মোতায়েন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে জানিয়েই পদক্ষেপ করা হয়।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০২:১৯

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার চূড়ান্ত দায়িত্ব কার নির্বাচন কমিশন, নাকি রাজ্য প্রশাসনের? এই প্রশ্নেই রাজ্যের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইল কলকাতা হাই কোর্ট। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বুধবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের কাছে এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে চায়। আগামী শুক্রবারের শুনানিতে রাজ্যকে আদালতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়ের করা মামলায় আবেদন করা হয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোট নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, তবে সেই বাহিনীকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে রাজ্য প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। কমিশনের দাবি, বাহিনী মোতায়েন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে জানিয়েই পদক্ষেপ করা হয়।

রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা। তারা কেন কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে চলবে? এখানে জনস্বার্থ মামলা যিনি দায়ের করেছেন, তিনি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। ফলে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে কেন্দ্রই তাঁকে দিয়ে এই মামলা করিয়েছে।’

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতে বলেন, ‘দু‘দফায় নির্বাচন ঠিক হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যথাসাধ্য চেষ্টা করছে নির্বিঘ্নে নির্বাচন করাতে। কেন্দ্রীয় বাহিনী আগে থেকেই রাজ্যে এসেছে। আরও আসবে। ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে নজরদারিও রাখা হবে। অবজার্ভার রাখা হয়েছে প্রচুর। তাঁদের কাজে যেন বাধা দেওয়া না হয়।’ এর পরেই প্রধান বিচারপতি রাজ্যের কাছে জানতে চান, কাদের পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হয়—সে বিষয়ে রাজ্যকে শুক্রবার জানাতে হবে।

এর পরেই প্রধান বিচারপতি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের সময় বাস্তবে কার তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণে গোটা প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়? সেই প্রশ্নেরই লিখিত ও মৌখিক উত্তর শুক্রবার আদালতে দিতে হবে রাজ্যকে। 


Share