Assembly Election

নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন আরজি করের নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা, বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকায় থাকতে পারে চমক, প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা আজই

তিনি বলেন, ‘‘অনেক দিন ধরেই আমাকে প্রার্থী হতে বলা হচ্ছিল। আমি রাজি ছিলাম না। কিন্তু আমি দেখলাম যে, নারীদের নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, আর পশ্চিমবঙ্গকে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে হলে তৃণমূলকে মূল থেকে উপড়ে ফেলা দরকার। তাই আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং প্রার্থী হতে রাজি হয়েছি।’’

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৪:১৩

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকায় বড় চমকের ইঙ্গিত মিলছে। আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুন হওয়া তরুণী চিকিৎসকের মা-কে প্রার্থী করা হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে পানিহাটিতে এলাকায় নির্যাতিতার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, পদ্ম প্রতীকে নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছা তিনি নিজেই বিজেপি নেতৃত্বকে জানিয়েছেন।

সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেই জানিয়েছেন, বুধবার তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমিই গতকাল সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বিজেপির প্রার্থী হিসাবে আমি লড়তে চাই।’’ তিনি বলেন, ‘‘অনেক দিন ধরেই আমাকে প্রার্থী হতে বলা হচ্ছিল। আমি রাজি ছিলাম না। কিন্তু আমি দেখলাম যে, নারীদের নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, আর পশ্চিমবঙ্গকে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে হলে তৃণমূলকে মূল থেকে উপড়ে ফেলা দরকার। তাই আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং প্রার্থী হতে রাজি হয়েছি।’’

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যাচ্ছে, আরজি কর-কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের পরিবারকে প্রার্থী করার ইচ্ছা আগে থেকেই ছিল বিজেপির। তবে পরিবার এত দিন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সেই কারণে বুধবার বিকেল পর্যন্ত পানিহাটিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বিকেলের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। নির্যাতিতার মায়ের দাবি, ‘‘আমি নিজেই গতকাল বিকেলে বিজেপি নেতৃত্বকে ফোন করে জানিয়েছি যে, আমি প্রার্থী হতে চাই।’’ বিজেপির কোন নেতাকে তিনি বা তাঁরা ফোন করেছিলেন, নির্যাতিতার পরিবার সে কথা জানাতে চায়নি। তবে সেই ফোন পাওয়ার পরেই পানিহাটিতে দলের প্রার্থীর নাম পুনর্বিবেচনা করা শুরু হয় বলে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে।

২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৪৪টি আসনে প্রার্থীর নাম আগেই ঘোষণা করেছে বিজেপি। বাকি ১৫০টি আসন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের একাধিক বৈঠক চলে। বুধবার রাতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে দ্বিতীয় দফার তালিকায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থী নিজে প্রকাশ্যে জানান যে তিনি বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন। ফলে আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশের আগেই রাজনৈতিক কৌতূহল তুঙ্গে পৌঁছেছে।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে একাধিক বার প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছিল পরিবার। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে সিবিআই-এর এক মহিলা আধিকারিকের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছিল তারা। সেই অভিযোগ লিখিত ভাবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও পৌঁছেছিল। পরবর্তী সময়ে বিজেপির সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে পরিবারের বক্তব্য ছিল। তবে এখন অবস্থান বদলে নির্যাতিতার মা বলছেন, ‘‘আমি মেয়ের বিচার চাই, নারীদের সুরক্ষা চাই, কর্মক্ষেত্রে মেয়েদের সুরক্ষা চাই। আমাদের মনে হয়েছে, এখন বিরোধী পক্ষ হিসাবে বিজেপি-ই ক্ষমতায় আসতে পারে। তাই আমরা বিজেপিতেই যোগ দিয়েছি। আমার মনে হয়েছে, আমার মেয়ের জন্য ন্যায় পেতে হলে বিজেপির সঙ্গেই থাকা দরকার।’’

অন্য দিকে পানিহাটি কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসে এ বার প্রার্থী বদল করেছে। ২০১১ সাল থেকে টানা ওই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন নির্মল ঘোষ। তিনি বিধানসভায় সরকারি দলের মুখ্য সচেতকও ছিলেন। কিন্তু এ বার তাঁকে টিকিট না দিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁর পুত্র তথা পানিহাটি পুরসভার কাউন্সিলর তীর্থঙ্কর ঘোষ-কে। ফলে পানিহাটি কেন্দ্র এ বারের নির্বাচনে বিশেষ নজর কাড়তে চলেছে। 


Share