Nabanna

ইচ্ছেমতো সচিবালয়ের কর্মীদের অন্য দফতরে নিয়োগ নয়, কড়া নির্দেশ নবান্নের

প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মী বিনিয়োগ দফতরের (পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস) ‘কমন ক্যাডার উইং’-এর লিখিত অনুমোদন ছাড়া সচিবালয় ক্যাডারের কোনও কর্মীকে ডিরেক্টরেট বা আঞ্চলিক কার্যালয়ে বদলি কিংবা বহাল রাখা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নবান্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:৫২

রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর আর নিজেদের ইচ্ছেমতো সচিবালয়ের কর্মীদের অন্য দফতরে নিয়োগ বা বদলি করতে পারবে না। এ বিষয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মী বিনিয়োগ দফতরের (পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস) ‘কমন ক্যাডার উইং’-এর লিখিত অনুমোদন ছাড়া সচিবালয় ক্যাডারের কোনও কর্মীকে ডিরেক্টরেট বা আঞ্চলিক কার্যালয়ে বদলি কিংবা বহাল রাখা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, সম্প্রতি রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক মহলের নজরে আসে, একাধিক দফতর নির্ধারিত নিয়ম না মেনেই সচিবালয়ের ‘কমন ক্যাডার’-এর কর্মীদের বিভিন্ন ডিরেক্টরেট ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে নিয়োগ করছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমোদনও নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। প্রশাসনের মতে, এই প্রবণতার ফলে কর্মী নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি ক্যাডার পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই সমস্ত প্রশাসনিক দফতরের উদ্দেশে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মী বিনিয়োগ দফতর। ঊর্ধ্বতন বিশেষ সচিবের স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় অনুমোদন ছাড়া কর্মীদের একতরফা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে সচিবালয় ক্যাডারের কোনও কর্মীকে ডিরেক্টরেট বা আঞ্চলিক স্তরের দফতরে পাঠানোর প্রয়োজন হলে প্রথমে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রস্তাব পাঠাতে হবে পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দফতরের কমন ক্যাডার উইং-এর কাছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরেই সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাবে।

নবান্নের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধানসচিব এবং সমস্ত দফতরের সচিবদের কাছে নির্দেশিকার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দেশটি কঠোরভাবে কার্যকর করার কথাও জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকারি কর্মীদের পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ক্যাডার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই পদক্ষেপ। এর ফলে বিভিন্ন দফতরের ইচ্ছামতো কর্মী নিয়োগ ও স্থানান্তরের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।


Share