Goutam Adani

আগামী ২০৩৫-এর মধ্যে রাজ্যে এক লক্ষ কোটি বিনিয়োগ! নিউ টাউনে দু'হাজার শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর শিলান্যাস, বড় ঘোষণা গৌতমের

অনুষ্ঠানে গৌতম আদানির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী প্রীতি আদানি এবং পুত্র করণ আদানি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে নিউ টাউনে অত্যাধুনিক এই হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের শিলান্যাস করা হয়।

(বাঁ দিক থেকে) শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৪৯

২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। বৃহস্পতিবার নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও গবেষণাকেন্দ্র ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভূমিপুজো ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে রাজ্যে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে গৌতম আদানির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী প্রীতি আদানি এবং পুত্র করণ আদানি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে নিউ টাউনে অত্যাধুনিক এই হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের শিলান্যাস করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে অত্যাধুনিক এই হাসপাতালের শিলান্যাস হয়।

হাসপাতালের শিল্যান্যাস কর্মসূচির পর গৌতম আদানি বলেন, ‘‘গুজরাতের পর দ্বিতীয় কর্মভূমি পশ্চিমবঙ্গ। এখানে অনেক বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে। বাংলার মাটিকে আমার প্রণাম। কলকাতাকে আমার প্রণাম।’’ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা একটা গৌরবের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন আদানি। তাঁর কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলা এগোবে। তাঁর হাত ধরে বাংলায় অনেক সম্ভাবনা গড়ে উঠবে।’’

নিউ টাউনে শিলান্যাস কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে বৃহস্পতিবার সকালে আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেন। এরপর তিনি অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে বাংলাতেই বক্তব্য শুরু করেন। ‘‘নমস্কার, কলকাতাকে আমার প্রণাম, বাংলার মাটিকে আমার প্রণাম’’—এই সম্ভাষণেই বক্তব্যের সূচনা করেন আদানি। তাঁর বক্তব্যে বার বার উঠে আসে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস এবং রাজ্যের মনীষীদের প্রসঙ্গ। নিউ টাউনে ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ নামে ২০০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির কথা ঘোষণা করেন গৌতম আদানি। এই প্রকল্পে প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্বের কথাও আদানি তুলে ধরেন আদানি। তাঁর বক্তব্যে, এক দিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার, অন্য দিকে সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকার কথা উঠে আসে।

রাজ্যের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন আদানি। বিদ্যুৎ বণ্টন ও উৎপাদন থেকে শুরু করে রাস্তা, সেতু-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো ক্ষেত্রে তিনি পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি কলকাতার ঐতিহাসিক স্থাপত্য সংরক্ষণেও আদানি গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়। রাজ্য সরকারের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে মহাকরণ এবং কুমারটুলি ঘাটের হেরিটেজ কাঠামো পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দুর্গোৎসবকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও তুলে ধরতেও আদানি গোষ্ঠী সহযোগিতা করবে বলে জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

আদানি বলেন, ‘‘গুজরাতে মুন্দ্রা বন্দর ছিল আমার প্রথম কর্মভূমি। এ বার বাংলা আমার দ্বিতীয় কর্মভূমি।’’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিনিয়োগের জন্য আদানি গোষ্ঠীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলার পুনর্গঠনে তাদের আরও সহযোগিতা প্রার্থনা করেন। অন্য দিকে, নিউ টাউনে প্রস্তাবিত হাসপাতালটিতে বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার দাবি করেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। প্রকল্পটিকে অলাভজনক হিসেবেই গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান।

গৌতমের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ১০০০ শয্যার হাসপাতালের একটি বড় অংশ অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় ওই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হবে। হাসপাতালের পাশাপাশি তৈরি হবে বিশ্বমানের মেডিকেল কলেজ এবং গবেষণাকেন্দ্রও। পুরো প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এই প্রকল্পকে শুধুমাত্র একটি হাসপাতাল হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি এটিকে সামগ্রিক ভাবে একটি ‘মেডিসিটি’ প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রায় ৫২ একর জমির উপর এই প্রকল্প গড়ে উঠবে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এ দিনের দিনটি রাজ্যের ইতিহাসে একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’।

এ দিন বাংলায় আরও বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাতেই বক্তব্য শেষ করেন গৌতম আদানি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ছেলে করণ আদানি এবং স্ত্রীও। তাঁদের উপস্থিতির জন্যও ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।


Share