Privet University

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মুনাফার জন্য নয়, গত পাঁচ বছরের আর্থিক হিসাব প্রকাশের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট, সমস্ত রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে মুখ্যসচিবদের মাধ্যমে হলফনামা দাখিল করতে হবে। আগামী ছ’সপ্তাহের মধ্যে এই হলফনামা সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দুই বিচারপতির বেঞ।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৩

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে কোনও ভাবেই মুনাফা অর্জনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা যাবে না। দেশের সমস্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেন, ফি কাঠামো, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক ও কর্মীদের নিয়োগ ও তাঁদের পারিশ্রমিক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চাইল সুপ্রিম কোর্ট।

এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল নয়ডার অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের অভিযোগ থেকে। পরবর্তীতে বিষয়টি বৃহত্তর পরিসরে দেশের সমস্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের দিকে সম্প্রসারিত হয়। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চে শুনানি হয়েছে। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, বৃহত্তর জনস্বার্থে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতিষ্ঠা, নিয়ন্ত্রণ এবং তারা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সুবিধা পায়, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন রয়েছে।

বিচারপতির নির্দেশ, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে গত পাঁচ বছরের অডিট করা আর্থিক নথি জমা দিতে হবে। সেই নথিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়, তহবিলের ব্যবহার, উদ্বৃত্ত অর্থ, সেই অর্থের বিনিয়োগ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন— এমন ব্যক্তিদের দেওয়া অর্থের বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আর্থিক সুরক্ষার জন্য যুক্তিসঙ্গত কারণে উদ্বৃত্ত অর্থ রাখতে পারে। তবে সেই অর্থ বা সম্পদ শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনও কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া কী ভাবে হয় তার সম্পূর্ণ বিবরণ দিতে হবে। কোন কোর্সে কীভাবে ছাত্র ভর্তি করা হয়, ভর্তি প্রক্রিয়ার দায়িত্বে কারা রয়েছেন, কী পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরি হয়, পরীক্ষা কীভাবে পরিচালনা করা হয় এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব কার হাতে রয়েছে —সই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে জানাতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া সমস্ত ফি-এর হিসাবও দিতে হবে। ভর্তির সময় এবং কোর্স চলাকালীন নেওয়া ফি ছাড়াও উন্নয়ন তহবিল এবং বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের নামে কোনও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় কি না, তা-ও জানাতে হবে। উদ্বৃত্ত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তারও বিস্তারিত হিসাব চেয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের নিয়োগের পদ্ধতি, তাঁদের বেতন ও অন্যান্য ভাতা, চাকরির শর্তাবলির তথ্যও প্রকাশ করতে হবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে কোন শিক্ষককে কতগুলি ক্লাস দেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবে তিনি কতগুলি ক্লাস নিয়েছেন, সেই হিসাবও জমা দিতে হবে। কোনও শিক্ষক ক্লাস না নিলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য কী বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেটাও জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ জানানোর কী ব্যবস্থা রয়েছে, সেই কমিটির গঠন কী ভাবে গঠন করা হয়েছে, কোন ধরনের অভিযোগ তারা বিবেচনা করে, গত তিন বছরে কতগুলি অভিযোগ জমা পড়েছে, অভিযোগগুলির কী আদৌ নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, নিষ্পত্তি করতে কত সময় লেগেছে— তার সম্পূর্ণ তথ্য চেয়েছে শীর্ষ আদালত তলব করেছে। এ ছাড়াও, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি জমি, আইনি ছাড় বা অন্য কোনও বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকলে তারও বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে সুপ্রিম কোর্টকে।

এ ছাড়াও, মেডিকেল-সহ সংশ্লিষ্ট কলেজগুলির সঙ্গে কোন হাসপাতাল যুক্ত এবং কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যে সম্পর্ক কী, তার বিবরণও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিকে যে সংস্থা স্বীকৃতি দেয়, তাদের গত পাঁচ বছরের পরিদর্শনের তথ্য জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিতে থাকা শিক্ষক ও সহায়ক কর্মীদের বিবরণও দিতে হবে। ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন, ডেন্টাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান নার্সিং কাউন্সিল, বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া-সহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন পদে থাকা চিকিৎসকদের নামও প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার চেয়ারম্যান বা প্রেসিডেন্টকে ব্যক্তিগত ভাবে হলফনামা দিতে হবে।

এই হলফনামা জমা দেওয়া দেওয়ার সময়ও বেধে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে মুখ্যসচিবদের মাধ্যমে হলফনামা দাখিল করতে হবে। আগামী ছ’সপ্তাহের মধ্যে এই হলফনামা সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দুই বিচারপতির বেঞ।

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সম্পদ ও পরিকাঠামো এমন ভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত যাতে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে। শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা যাতে উপযুক্ত পারিশ্রমিক পান সেটাও দেখতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কখনই মুনাফা অর্জনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব‍্যবহার করা যাবে না।


Share