Swasthya Bhawan

ভুয়ো ডাক্তার ঠেকাতে বেসরকারি হাসপাতাল-নার্সিংহোমে কড়া নজর, নিয়োগের আগে মেডিকেল কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন যাচাই বাধ্যতামূলক

কোনও চিকিৎসকের পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা দ্রুত যাচাই করতে হবে। ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পরেই এই পদক্ষেপ।

স্বাস্থ্য ভবন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৫১

রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে ভুয়ো চিকিৎসকের প্রবেশ ঠেকাতে স্বাস্থ্য ভবন কড়া পদক্ষেপ করল। রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলে নাম ও রেজিস্ট্রেশন যাচাই না করে কোনও চিকিৎসককে নিয়োগ করা যাবে না—নতুন নির্দেশিকায় স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে। কোনও চিকিৎসকের পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা দ্রুত যাচাই করতে হবে। ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পরেই এই পদক্ষেপ।

ভুয়ো চিকিৎসকদের চিহ্নিত করতে রাজ্য সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে হাই কোর্ট চেয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে ২ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করে মোট চার দফা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নতুন করে কোনও চিকিৎসক নিয়োগের আগে তাঁর রেজিস্ট্রেশন-সহ যাবতীয় নথি যাচাই করতে হবে। ২০১৭ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট (রেজিস্ট্রেশন, রেগুলেশন অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি) রুলসের ৭(৪) নম্বর বিধি মেনে এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ভবনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই অনেকে নিজেদের চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তির শিকার হন। এই ধরনের প্রবণতা রুখতে সমস্ত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

কোনও ব্যক্তির পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রেজিস্ট্রেশন বা চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার অধিকার নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে বিষয়টি জানাতে হবে। প্রয়োজনে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশন যাচাই করতে হবে। অনুমোদন ছাড়া ভুয়ো পরিচয়ে চিকিৎসা করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।

স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিকর্তা স্বপন সরেনের স্বাক্ষর করা ওই নির্দেশিকায় জনস্বার্থে সমস্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম। সংগঠনের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বলেন, ভুয়ো চিকিৎসকের সমস্যা নিয়ে তাঁরাই আগে সরব হয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে মেডিকেল কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যোগ্যতা না থাকলে বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে কাউকে নিয়োগ করা হবে না। তবে ভুয়ো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সরকারকেও আরও কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গ ডক্টর্স ফোরামের সভাপতি কৌশিক চাকীও স্বাস্থ্য দফতরের আরও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। সম্প্রতি আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক অভীক দে-র ট্রেনি রিজ়ার্ভ পোস্ট বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলি সতর্ক থাকলেও মেডিকেল কাউন্সিলের ভিতরের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য দফতরকে এ ধরনের ঘটনায় আরও দৃঢ় পদক্ষেপ করতে হবে। 


Share