Abhishek Banarjee

‘স্টেটাস কো’ বহাল থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিম্ন আদালতেই! অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর নিয়ে হাই কোর্টের সময়সীমা বেঁধে নির্দেশ

বুধবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সন্দীপকুমার দে-র ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, পুজোর ছুটি শেষে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ‘ইনজাংশন’ বা ‘স্টেটাস কো’-র আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে হবে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১৮

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় দফতর খালি করার জন্য বাড়ির মালিকের দেওয়া নোটিস সংক্রান্ত মামলা নিম্ন আদালতেই ফেরত পাঠাল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সন্দীপকুমার দে-র ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, পুজোর ছুটি শেষে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ‘ইনজাংশন’ বা ‘স্টেটাস কো’-র আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে হবে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত শুনানি প্রয়োজন। তাই সিটি সিভিল কোর্টেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এর আগে সিটি সিভিল কোর্টের বিচারপতি সুধীর কুমার নির্দেশ দিয়েছিলেন, মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে ‘স্টেটাস কো’ বজায় থাকবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বাড়ির মালিক হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। বুধবার ডিভিশন বেঞ্চ সেই মামলা নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠিয়ে দ্রুত শুনানির নির্দেশ দিয়েছে। কোনও পক্ষের প্রতি পক্ষপাত না করে আদালত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শুনানি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ৯ ক্যামাক স্ট্রিটের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর রয়েছে। গত ২৭ অগস্ট সেখান থেকে বিলবোর্ড খুলতে গিয়ে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে অভিষেক অনুগামীদের বচসা বাধে বলে অভিযোগ। পুলিশের সঙ্গেও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই মামলায় হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ না করায় কালীঘাট তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। এর মধ্যেই দমকলের তরফে ভবন মালিককে নোটিস দিয়ে সপ্তম ও অষ্টম তলায় অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা যথাযথ না থাকার অভিযোগ তুলে দ্রুত ওই দু’টি তলা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে মালিকপক্ষও অভিষেকদের দফতর খালি করার নির্দেশ দেয়। যদিও গত ১১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ দমকলের নোটিসের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।

অন্য দিকে, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই সম্পত্তির মালিক রামাদেবী গোয়েন্‌কার আইনজীবী সাগ্নিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ২০২০ সালের ১ মার্চ তাঁর মক্কেল ও যুব তৃণমূলের মধ্যে বাড়িটি লিজ নেওয়া নিয়ে চুক্তি হয়েছিল। তৃণমূলের হয়ে চুক্তিতে সই করেছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। ১০ বছরের জন্য লিজ়ের চুক্তি হলেও সেখানে শর্ত ছিল, মালিকপক্ষ কমপ্লিশন সার্টিফিকেট (সিসি) দেওয়ার পরেই তৃণমূল দফতরটি পাবে। আইনজীবীর অভিযোগ, মালিকপক্ষ সিসি দিতে না পারলেও তৃণমূল ‘জোর করে’ দফতরের দখল নেয়। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে অভিষেক শিবিরের পাল্টা দাবি, রাজ্যের শাসকদলের প্ররোচনাতেই ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর থেকে তাঁদের উৎখাতের চেষ্টা চলছে।


Share