Allegation of Extortion

তোলা না দেওয়ায় রেস্তোরাঁয় হামলার অভিযোগ, সিসিটিভি খুলে নিয়ে চম্পট! আমডাঙায় বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

শুধু ভাঙচুরই নয়, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে রেস্তোরাঁর সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলিও দুষ্কৃতীরা খুলে নিয়ে যায়। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভালুকা মণ্ডৌরি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায়।

এই দোকানে হামলার অভিযোগ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:২৯

উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায় তোলা না দেওয়ায় একটি রেস্তোরাঁয় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে রেস্তোরাঁ লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয়। রেস্তোরাঁর কাচ-সহ একাধিক জিনিসপত্র ভেঙে দেওয়া হয়। শুধু ভাঙচুরই নয়, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে রেস্তোরাঁর সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলিও দুষ্কৃতীরা খুলে নিয়ে যায়। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভালুকা মণ্ডৌরি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আমডাঙা থানার অন্তর্গত মরিচা পঞ্চায়েতের ভালুকা মণ্ডৌরি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে গভীর রাতে, প্রায় ১টা নাগাদ। অভিযোগ, কয়েকজন দুষ্কৃতী আচমকাই রেস্তোরাঁ ও হোটেলটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বাইরে থেকে ইট-পাথর ছুড়ে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি দোকানের সামনে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলিও খুলে নিয়ে যায় তাঁরা। সকালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে এসে ভাঙচুরের বিষয়টি নজরে পড়ে মালিকের। এরপরই তিনি আমডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় আমডাঙা থানার পুলিশ। গোটা এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার তথ্যও সংগ্রহ করছে পুলিশ।

রেস্তোরাঁ মালিকের অভিযোগ, তোলা দিতে রাজি না হওয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনায় বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, রেস্তোরাঁর মালিক আগে মাটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিবাদ থাকতে পারে। কর্মচারীদেরও ঠিকমতো টাকা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি বিজেপির। সেই কারণেই কোনও পক্ষ এই ভাঙচুর করে থাকতে পারে বলে বিজেপির দাবি।

বিজেপি নেতা অজিতাভো মাইতি বলেন, "বিজেপি কোনোও কর্মী জড়িত নেই। এই দোকানদার বিগতদিনের তৃণমূল আশ্রিত মাটি মাফিয়া ছিল। তাদের সেই বিগতদিনের টাকা-পয়সা লেনদেনের কারণে তাদের সাগরেতরাই রাতের অন্ধকারে ভাঙচুর করেছে। বিজেপি সরকারকে বদনাম করার জন্য এই দায় বিজেপি কর্মীদের চাপিয়ে দেওয়া হয়।"

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অন্য দিকে, অশান্তি এড়াতে ভালুকা মণ্ডৌরি এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। তদন্ত চালাচ্ছে আমডাঙা থানার পুলিশ।


Share