Donald Trump

আমেরিকার মাটিতে ভারতের ১৫ বিলিয়ন ডলারের ‘স্টিল’ সাম্রাজ্য! ট্রাম্পের ঘোষণায় আইওয়ায় তৈরি হবে মেগা ইস্পাত কারখানা

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিনেসোটায় সংস্থার নিজস্ব খনি থেকে লৌহ আকরিক সংগ্রহ করে প্রায় ২৫০ মাইল দূরে আইওয়ার কারখানায় নিয়ে গিয়ে ইস্পাত উৎপাদন করা হবে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৩

আমেরিকার মাটিতে তৈরি হতে চলেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইস্পাত কারখানা। ভারতীয় বহুজাতিক শিল্পগোষ্ঠী এসার গ্রুপের অধীনস্থ মেসাবি মেটালিকস এই মেগা প্রকল্পে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। আইওয়া রাজ্যে তৈরি হবে বিশাল এই ইস্পাত কারখানা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিনেসোটায় সংস্থার নিজস্ব খনি থেকে লৌহ আকরিক সংগ্রহ করে প্রায় ২৫০ মাইল দূরে আইওয়ার কারখানায় নিয়ে গিয়ে ইস্পাত উৎপাদন করা হবে।

মিনেসোটার মেসাবি রেঞ্জে অবস্থিত ওই খনির পিছনে ইতিমধ্যেই ২.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে সংস্থা। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে আমেরিকায় তৈরি হওয়া প্রথম নতুন লৌহ আকরিক খনি হিসেবে এটিকে উল্লেখ করা হয়েছে। এই খনি থেকে পাওয়া আকরিক ব্যবহার করে আইওয়ার কারখানায় প্রথম পর্যায়ে বছরে প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন টন ইস্পাত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে বছরে ১০ মিলিয়ন টনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আইওয়ার কারখানায় অন্তত এক হাজার ৭৫০টি স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হবে। নির্মাণপর্বে আরও পাঁচ হাজার  থেকে ছ'হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি মিনেসোটার খনিতে প্রায় ৩৫০টি নতুন চাকরি তৈরি হবে। নির্মাণপর্ব এবং কারখানা চালুর পর প্রথম ১০ বছরে পুরো প্রকল্পটি প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

আমেরিকার প্রশাসনের ৫০ শতাংশ ইস্পাত আমদানি শুল্কের আবহে এই বিপুল বিনিয়োগকে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদেশ থেকে ইস্পাত আমদানির পরিবর্তে দেশীয় উৎপাদনের উপর জোর দেওয়ার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই প্রকল্প বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। এসার গ্রুপের চেয়ারম্যান রেবন্ত রুইয়া জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ আমেরিকার নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা এবং সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে।


Share